Monday, 19 November 2012

বউ শাশুড়ি বন্ধু!


ঝুমার নতুন বিয়ে হয়েছে। শ্বশুর বাড়ির সবাই তাকে অনেক গুরুত্ব দেয় ভালোবাসে। সমস্যা শুধু শাশুড়ি। খুব আক্ষেপ করে সেদিন বলছিলো শাশুড়ি না থাকলে আমার সংসারটা অনেক শান্তির হতো। বউ-শাশুড়ি সম্পর্ক কি শুধুই খুনসুটি আর একে অন্যের দোষ ধরার জন্য? না, দিন পাল্টেছে, আমরা মনে করি শাশুড়িও হয়ে উঠতে পারেন বউমার আশ্রয়ের জায়গা। সেই সাথে বউও হবে শাশুড়ির মনের কথা শেয়ার করার সঙ্গি। কীভাবে? বউদের জন্য রইলো কিছু সহজ পদ্ধতি, যা আমাদের এই সম্পর্ককে আরও আন্তরিকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং অর্থবহ করতে সাহায্য করবে।
শাশুড়ির পছন্দ অপছন্দগুলো স্বামীর কাছ থেকে জেনে নিন। তিনি অপছন্দ করেন এমন বিষয়গুলো কথা বলার সময় সামনে আনবেন না। দীর্ঘদিন শাশুড়ি তার পরিবারের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। বিয়ের সঙ্গে সঙ্গে তার কিছু বিষয় আপনার ভালো না লাগলেও রাতারাতি ওগুলো পরিবর্তন করতে চাওয়াটা ঠিক নয়।


এমন হতে পারে আপনার বাবার বাড়ির রান্নার সঙ্গে শাশুড়ির রান্নার ধরণ মিলছে না। বা তাদের রান্না হয়তো আপনার খেতে কষ্ট হচ্ছে, এমন অবস্থায়ও শাশুড়ির রান্নার প্রশংসা করুন। চেষ্টা করুন তাদের খাবার পছন্দ করে খেতে আর মাঝে মাঝে আপনার পছন্দের আইটেম সবার জন্য তৈরি করুন। শাশুড়ির যে রান্নাগুলো আপনার স্বামী পছন্দ করেন, সে রেসিপিগুলো আগ্রহের সঙ্গে শিখে নিন। শাশুড়ি আর স্বামী একসঙ্গে খুশি হয়ে যাবেন। বাড়িতে যদি ননদ থাকে স্বাভাবিকভাবেই শাশুড়ি নিজের মেয়েকে গুরুত্ব দেবেন। এটা দেখে হয়তো আপনার ভালো নাও লাগতে পারে। তবে ননদকে প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলুন। শাশুড়ি যখন দেখবেন আপনি তার প্রিয় সন্তানকে আপন করে নিয়েছেন, তিনি আপনাকে আরও পছন্দ করতে শুরু করবেন।
আপনার বাড়িতে কোনো অতিথি যদি কোনো উপহার নিয়ে আসেন আপনার নিশ্চয় ভালো লাগবে। এই আইডিয়াটাই কাজে লাগান। শাশুড়ির জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী মনে রাখুন, আর বিশেষ দিন ছাড়াও মাঝে মাঝে তার জন্য ছোট ছোট উপহার নিয়ে আসুন। শাশুড়ি আগের দিনের মানুষ বউ একটু সাজুগুজু করে পরিপাটি থাকলে তিনি পছন্দ করেন, এলোমেলো থাকা পছন্দ করেন না। বেশ তো এটা নিয়ে আভিযোগ করার কি আছে? গুছিয়ে থাকলে সবাই আপনার রুচিরই প্রশংসা করবে। আর আয়নাতেও আপনাকেই সুন্দর লাগবে। শাশুড়ির সঙ্গে সবসময় নরম, ভদ্রভাবে কথা বলুন। তার কোনো আচরণ ভালো না লাগলে বিতর্কে জড়াবেন না। কোনো প্রয়োজনে আপনি বা শাশুড়ি বাইরে থাকলে নিয়মিত ফোন করে খোঁজ নিন। তিনি ফোন করে আপনার খোঁজ করেননি কেন এই অপেক্ষায় না থেকে আগে ফোন করুন। তিনিও একসময় আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে উদ্যোগি হবেন। আর এভাবেই আপনাদের মাঝে একটি সুন্দর সম্পর্ক তৈরি হবে। কোনো পরিকল্পনা করার সময় শাশুড়ির পরামর্শ চান। এতে করে সন্তানের জীবনে তার মতামতের গুরুত্ব আছে ভেবে তিনি  আনন্দিত হবেন। সম্মান করে শাশুড়ির ভালোবাসা অর্জন করুন। তার কোনো আচরনে কষ্ট পেলেও ক্ষমা করতে জানতে ভুলবেন না। আর এই সহজ নিয়মগুলোই আপনার জীবন অনেক সহজ করে দেবে।




নিজের ঢোল নিজে পেটাই

প্রাচীনকালে মুরুব্বিরা বলতেন, নিজের ঢোল একটু কম পেটাও বাবা, তা না হলে তো ঢোল ফাটাইয়া ফালাবা। মোদ্দাকথা, নিজের ঢোল নিজে পেটাতে হয় না। এমনটাই তারা মনে করতেন। তারা ঢোল পেটানোর দায়িত্ব অন্যকে দিতেন। কিন্তু এই ডিজিটালকালে এসে মুরুব্বিদের থিওরি বাতিল হয়ে গেছে। এখন নিজের ঢোল নিজেকেই পেটাতে হবে। কারণ আপনিই ভালো জানেন কিভাবে আপনার ঢোল পেটাতে হবে। কিভাবে পেটালে ঢোল ভালো বাজবে। ফেটে যাবে না। কারণ অন্যকে পেটাতে দিলে তারা এমন আস্তে পেটাবে যে, কেউ শুনতে পাবে না। অথবা ঢোল এমন জোরে পেটাবে, শেষে ঢোলই ফেটে যাবে। সুতরাং নিজের ঢোল নিজেই পেটাও। এতে কোনো দোষ নেই। কেন দেখেছেন না, আপনার চোখের সামনে যদু, মধু, কদু সমানে নিজের ঢোল পিটিয়ে যাচ্ছে। এতে কিন্তু তাদের লাভ ছাড়া কোনো তি হচ্ছে না। তো চলুন এখন থেকে নিজের ঢোল পেটাই। কিন্তু মুশকিল হলো, আপনি তো আর তাদের মতো না। এখনো শিখতে পারেননি, কিভাবে ঢোল পেটাতে হয়। আপনাকে জলে না ফেলে আমরা এখন আপনাকে কিছু ঢোল পেটানোর অনুগল্পের নতুনসহ কিছু কলাকৌশল হাতে-কলমে শিখিয়ে দেবো।
উদাহরণ হিসেবে আমার কথাই বলতে পারি, আমি নিজেকে অতি উচ্চশ্রেণীর লেখক, থুক্কু লেখক মনে করি। ইতোমধ্যে দেশের নামকরা পত্রিকা-ম্যাগাজিনের আমার শত শত কৌতুক ছাপা হয়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন রসেভরা ছড়া-কবিতা নিত্যদিন বিভিন্ন জায়গায় ছাপা হচ্ছে। আজকেও তো কুম্ভকর্ণ ম্যাগাজিনে আমার প্রচণ্ড হাসির একটা কৌতুক ছাপা হয়েছে। এই সুসংবাদ আমি রাত ১২টা থেকেই সবাইকে মোবাইল করে জানিয়ে দিয়েছি।  আমার অনেক ভক্ত আছে, তারাও আমার ছাপা হওয়া কৌতুক পড়ে আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। সুতরাং আপনি যদি লেখক শ্রেণীর কেউ হন, সে েেত্র মেরে ভাইয়া, ওই পদ্ধতি কাজে লাগাতে উঠেপড়ে লাগেন।
আধুনিক পদ্ধতির সাহায্য নিতে পারেন। ইন্টানেট দুনিয়ায় প্রবেশ করতে হবে। নিজের একটা ব্লগ ওপেন করার পাশাপাশি, অন্যদের ব্লগে গিয়েও ভিড় জমাতে হবে। তারপর সবাই মিলে গলা ফাটিয়ে ফেলবেন, মানে কার্যক্রম শুরু করবেন আর কী!  ব্লগের পাশাপাশি ফেসবুকেও জয়েন করতে পারেন। সেখানে নিজেকে মেলে ধরার অফুরন্ত সুযোগ পাবেন। এতে দোষের কিছু নেই। এই পদ্ধতি লেখক-কবি শ্রেণীর জন্য বিশেষ ফলদায়ক।
যদি প্রেমিক হন। প্রেমিকাকে নিজের সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করতে অনেক চেষ্টা-তদবির করেও মনপ্রিয়ার মন পাচ্ছেন না। তো আপনাকে আপনার কিছু শুভাকাক্সী (ছেলেমেয়ে উভয় লাগবে) সৃষ্টি করতে হবে। তারা আপনার সম্পর্কে জনে জনে বিভিন্ন গালগল্প বলে বেড়াবে। বিশেষ করে মেয়ে বন্ধু আপনার প্রেমিকার কাছে গিয়ে যাতে আপনাকে ধোয়া তুলসিপাতা হিসেবে প্রচার করতে পারে সে দিকে বেশি দৃষ্টি দিবেন। কিছু দিন পরেই দেখবেন, আপনার উদ্দেশ্য সফল হয়েছে।
আপনি আপনার অফিসে বস ও কলিগদের কাছে নিজের ব্যাপারে কোনো পাত্তা পাচ্ছেন না। বসও আপনাকে গণনায়ই ধরে না। মোট কথা আপনি কোনো কাজের না বলেই তারা মনে করে। আপনিও যে অনেক কাজ করে তা তারা জানে না। সুতরাং আপনি দাদার (দাদাকে আপনারা চিনবেন না) পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন। দাদার মতো করে, আপনিও সবসময় বসের সামনে দাঁত কেলিয়ে নিজের প্রতিদিনের কাজের বিবরণ দিতে থাকুন। প্রতিদিন একটি কাজ নিয়েই বসে থাকুন। যদি কেউ অন্য কোনো কাজের কথা বলে, তখন বলুন, আপনার হাতে কোনো সময় নেই। আপনার কাজের অনেক প্রেসার। দেখবেন, কেউ আপনাকে আর ঘাটবে না। উল্টো তারাই বলতে থাকবেÑ হ্যাঁ, তাই তো, উনার হাতে অনেক কাজ; উনাকে বিরক্ত করা যাবে না।
নিজের ঢোল পেটানোর আরো অনেক গল্প আছে এবং আরো আছে কিছু কলাকৌশল। কিন্তু আজ সব বলা যাবে না। আগামীর জন্য অপো করতে হবে। তত দিন নিজেই চেষ্টা করুন।

Sunday, 18 November 2012

এক যে ছিল রাজা

 
তোমরা অনেক মজার মজার গল্প জানো নিশ্চয়ই। কেউ কেউ হয়তো ভূতপ্রেতের কিসসা জানো। আবার কেউ বা জানো রাজা-রাজড়াদের গল্প। এমন অনেক গল্প আছে যা অনেক পুরনো দিনের। কিন্তু সেইসব গল্প শুনলে তোমরা চমকে উঠবে। তোমরা অনেক কিছু জানতে পারবে। এসব গল্পে হয়তো হাসাহাসির খোরাক নেই। নেই রমরমা কোনো ভয়ের বিষয়। তবে এসব গল্প শুনলে তোমরা হয়তো ভাববে, এসব ঘটনাও কি আসলে সম্ভব। মানুষ কি এমন হতে পারে! কিংবা মানুষের পক্ষে এমন করা আদৌ কি সম্ভব। এসব কাহিনী শুনে তোমরা অবাক হয়ে যাবে। আজ এমনই এক কাহিনী তোমাদের শোনাব।


 
সে অনেক অনেক দিন আগের কথা। এক ছিল মস্তবড় রাজা। তার ছিল বিশাল বড় এক রাজ্য। এত বড় রাজ্য তখন কোথাও ছিল না। আজো এত বড় রাজ্য দুনিয়ার মানুষ দেখেনি। অথচ সেই রাজার ছিল অতি সাধারণ এক রাজপ্রাসাদ। সেই প্রাসাদে কোনো জাঁকজমক ছিল না। রাজপ্রাসাদের সিংহদরজায় ছিল না কোনো পাহারাদার। রাজার নিরাপত্তার জন্য কোনো সৈন্যসামন্ত ছিল না। সেই রাজপ্রাসাদ উজির-নাজিরদের ভিড়ে গমগম করত না। রাজার প্রাসাদে দাসদাসীদের কলরবও শোনা যেত না। রাতের বেলায় নানা রঙের বাতির মহড়াও চোখে পড়ত না রাজপ্রাসাদে। আর রাজার অবস্থা তো ছিল আরো করুণ। তাকে দেখলে কে বুঝবে যে তিনি এত বিশাল রাজ্যের মালিক। তার গায়ে জরির পোশাক নেই। মাথায় স্বর্ণের মুকুটও নেই। রাজার পায়ে সোনালি নাগরাও নেই। রাজা যখন চলেন তার আগে-পিছে শত শত সৈন্যসামন্ত বা দাসদাসীর লটবহর দেখা যেত না। সেই এক অদ্ভুত রাজা ছিলেন তিনি। আর অদ্ভুত ধরনের ছিল তার রাজপ্রাসাদ। আমাদের অতিপরিচিত এই রাজা ছিলেন এক গরিব রাজা। গরিব হলে কী হবে, রাজার ছিল দুনিয়াজোড়া নাম। তার ছিল বিশাল রাজ্য। তার ক্ষমতাও ছিল অসীম। তার নাম শুনলেই আশপাশের বড় বড় রাজা ভয়ে থরথর করে কাঁপত। তার রাজ্যে কোনো অভাব-অনটন ছিল না। রাজ্যের মানুষ সুখশান্তিতে বাস করত। সেই রাজ্যে উঁচু-নীচুর কোনো ভেদাভেদ ছিল না। রাজার রাজ্যে হানাহানি-দলাদলি ছিল না। সবাই মিলেমিশে বাস করত তার রাজ্যে। সেই রাজ্যের মানুষ সদাই হাসিখুশিতে দিন কাটাত। রাজাও ছিল বড় সচেতন। তার দেশের কোনো মানুষ না খেয়ে না পরে থাকুক সেটা রাজা চিন্তাও করতে পারত না। তাই সে রাতের আঁধারে ঘুরে বেড়াত মানুষের দ্বারে দ্বারে। কে কোথায় কিভাবে আছে, তাদের অবস্থা নিজ চোখে দেখার জন্য সে ব্যাকুল থাকত। সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ত গরিব রাজা ঠিক তখনই বেরিয়ে পড়ত তার প্রজাদের খোঁজে। সে বলত, আমার রাজ্যে একটি কুকুরও যদি না খেয়ে মারা যায় তাহলে এর জন্য আমাকেই মহান প্রভুর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। কেমন অপূর্ব মহৎ ও দরদি ছিল সেই রাজা।
একদিনের ঘটনা। রাজা আপন মনে ঘুরে বেড়াচ্ছিল মদিনার অলিগলিতে। চার দিকে তখন ঘন অন্ধকার। মদিনার মানুষেরা সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। কোথাও কোনো সাড়াশব্দ নেই। রাজা ঘুরতে ঘুরতে এক জায়গায় এসে দেখল অনতিদূরে ক্ষীণ আলো জ্বলছে। রাজা বুঝল কেউ হয়তো জেগে আছে। তার মনে অজানা এক বিপদের আশঙ্কা জাগল। তাই সে এগিয়ে গেল। সামনে এগোতেই রাজার চোখে পড়ল একটি তাঁবু। সে আরো কাছে গেলে বাইরে থেকে এক দৃশ্য দেখে রাজার মন খারাপ হয়ে গেল। সে দেখল এক মহিলা উনুনে পানি জ্বাল দিচ্ছে আর পাশে বসে তার ছোট ছোট ছেলেমেয়ে কাঁদছে। রাজা অনেকক্ষণ একই দৃশ্য দেখে অবাক হলো। তাই সে কাছে এগিয়ে গিয়ে মহিলাকে পানি জ্বাল দেয়ার কারণ জিজ্ঞেস করল। মহিলা লোকটির কথা শুনে অশ্রুসজল হয়ে উঠল। তার বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। তারপর অনেক কষ্টে মহিলা বলল, ‘আমার ঘরে কোনো খাবার নেই। ছেলেমেয়েরা না খেয়ে আছে। ুধার জ্বালায় কাঁদছে। তাই তাদের মিথ্যা বুঝ দেয়ার জন্য খালি হাঁড়িতে মিছেমিছি পানি জ্বাল দিচ্ছি।’
মহিলার দুঃখের কথা শুনে রাজার মন বিষাদে ভরে উঠল। সে এই অবুঝ শিশুদের ব্যথা দেখে মর্মাহত হলো। তৎক্ষণাৎ রাজা মহিলাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল, একটু অপেক্ষা করো মা, আমি এক্ষনি আসছি। এ কথা বলেই সে বেরিয়ে পড়ল। একটু পরই বায়তুলমাল থেকে খাবারের বোঝা নিজের পিঠে বহন করে মহিলার তাঁবুতে পৌঁছে দিলো। মহিলা এগুলো দিয়ে খাবার তৈরি করে ুধার্ত ছেলেমেয়েদের খাওয়াল। এতে মহিলা খুবই খুশি হলো। এই অবস্থা দেখে রাজার মনও পরম তৃপ্তিতে ভরে উঠল। মহিলার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এবার রাজা গভীর রাতে রাজপ্রসাদে ফিরে গেল। প্রজার সেবা করতে পেরে সে প্রভুর শুকরিয়া আদায় করল।


এই মহান রাজার জীবনের আর একটি ঘটনা। একদিন তার বেগম তাকে বলল, বহুদিন ধরে জয়তুন তেল দিয়ে শুকনো রুটি খেতে খেতে মুখে একদম অরুচি ধরে গেছে। যদি একটু মধুর ব্যবস্থা করা যেত তাহলে মন্দ হতো না। রাজা বেগমের কথা শুনে ভাবল। সেও যে এ রকমই চিন্তা করছিল। কিন্তু মধু আনার সামর্থ্য যে তার নেই। যা ভাতা পায় তা দিয়ে মধু জোগাড় করা খুব কটিন। বহু ভেবে বেগম একটা উপায় বের করল। সে বলল, বায়তুলমাল থেকে কিছু দিরহাম ধার নিলেই তো হয়ে যায়। পরে তা ধীরে ধীরে শোধ করার ব্যবস্থা করা যায়। বেগমের কথা রাজার মনঃপূত হলো। তাই সে বায়তুলমালের প্রধানের কাছে যাওয়ার জন্য মনস্থ করল। এমন সময় রাজার পুত্র বলল, বাবা! আপনি কি মনে করেন যে আপনি আগামীকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকবেন?

রাজা জবাব দিলো, মানুষের তো এক মুহূর্তও বেঁচে থাকার সুযোগ নেই।
এবার পুত্র বলল, তাহলে আপনার ঋণ করে ভালো খাবার জোগাড় করা কি ঠিক হবে? এ কথা শুনে রাজার মন কেঁপে উঠল। তাই তার আর মধু খাওয়া হলো না। এই মহান লোকটির নাম কি তোমরা অনুমান করতে পারো? এত সহজ-সরল, খোদাভীরু ও প্রজাবৎসল রাজার কথা কি কল্পনা করা যায়! অথচ তিনি অর্ধেক দুনিয়ার মালিক। এই মহারাজা আর কেউ নন, ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর রা:। তিনি উমর ইবনে খাত্তাব। তার শাসনব্যবস্থার নজির আজো বিরল। উমরের রা: শাসনের মতো সুন্দর ও শান্তিময় অবস্থা আজো দুনিয়ায় কায়েম হয়নি। এই মহান ব্যক্তির জীবনে এ রকম আরো অনেক অনুপম ও শিক্ষণীয় ঘটনায় পরিপূর্ণ। তোমরা বড় হয়ে তার বিশাল জীবনচরিত পড়লে আরো অনেক কিছুই জানতে পারবে। তিনি ৫৮৩ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১০ বছর ছয় মাস ক্ষমতায় ছিলেন। হিজরি ২৩ সালে এই মহান ব্যক্তি ইন্তেকাল করেন।

না খাওয়ার দল

 
না খেয়ে বেঁচে থাকা দুনিয়ার কোনো প্রাণীর পক্ষেই সম্ভব নয়। পেটে দানাপানি না পড়লে কেমন লাগে, এক বেলা না খেয়ে থাকলে হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যায়। এর পরও এমন কিছু প্রাণী আছে, ক্ষুধা যারা অনেক দিন দমিয়ে রাখতে পারে।


মরুর জাহাজ উটের কথাই ধরো না। দিগন্তবিস্তারী মরুভূমিতে চাঁদি ফাটানো রোদের মধ্যে মানুষসহ বোঝা নিয়ে ক্লান্তিহীন হেঁটে যায় তারা। দিনের পর দিন এভাবেই কাটে। এ সময় খাবার না পেলেও ক্ষুৎপিপাসায় কাতর হয় না ওরা। এর কারণটি হচ্ছে উটের পিঠে পাহাড়ের মতো উঁচু হয়ে থাকা কুঁজ। এই কুঁজ পুরোটাই চর্বির ভান্ডার। উট যখন না খেয়ে থাকে, এই চর্বি হজম হয়ে তার টিকে থাকার শক্তি জোগায়। এ ছাড়া উটের গলার ভেতর পানি জমিয়ে রাখার থলে রয়েছে। এ সঞ্চয় তার পানির চাহিদা মেটায়।
সাপেরও খিদে ঠেকিয়ে রাখার ক্ষমতা দারুণ। অনেক সাপই একটানা এক বছর না খেয়ে থাকতে পারে। সুস্বাদু মাছ স্যামন প্রায় নয় মাস না খেয়ে থাকতে পারে। সাগর থেকে এই মাছ যখন ঝাঁক বেঁধে নদীর উজানের দিকে ছোটে, এ সময় না খেয়ে থাকে ওরা।
ভালুকদের মধ্যে বাদামি গ্রিজলি ভালুক অতিকায় একটি প্রাণী। দেহ যেমন, খায়ও তেমন। তবে খিদে চেপে রাখতেও কম পটু নয়। শীতকালে এই ভালুক নির্জন কোনো নিরাপদ স্থানে শীতঘুমের আয়োজন করে। এ সময় পুরোটা শীতকাল ঘুমিয়ে কাটায় ওরা। এতে একটানা সাত মাস না খেলেও কিছু হয় না ওদের। ঠিক উটের মতো গায়ে জমে থাকা চর্বি খাবারের কাজ সারে।
ইংরেজিতে ওদের বলে ‘হানিপট অ্যান্ট’। বাংলায় ‘মধুপিঁপড়া। শরীরের চেয়ে বড় গোলগাল একটা মধুর পোঁটলা নিয়ে ঘোরে ওরা। সঙ্গে মধু নিয়ে ঘুরলে কী হবে, উপোসে কম যায় না। একটানা ছয় মাস না খেলেও কাহিল হয় না ওরা।

সামুদ্রিক প্রাণীর মধ্যে বিশাল খাদক বলে কুখ্যাতি আছে তিমির। এ ক্ষেত্রে অ্যান্টার্কটিকার সাগরজলে বাস করা ‘সাউদার্ন রাইট হোয়েল’ একটানা চার মাস না খেয়ে থাকতে পারে।
মেরু অঞ্চলের পাখি এমপেরর পেঙ্গুইন বা রাজ পেঙ্গুইনও না খেয়ে থাকতে পারে অনেক দিন। ডিম থেকে ছানা ফোটার পর কনকনে হিম পরিবেশে ওটাকে আগলে রাখে বাবা পেঙ্গুইন। আর মা যায় সাগরে মাছ ধরে আনতে। এ সময় মাস তিনেক একদম খেতে পারে না বাবা পেঙ্গুইন।
ওয়েডেল সিলের বেলায় এমন কষ্ট পোহাতে হয় মাকে। নতুন বাচ্চাটিকে আগলে রাখতে গিয়ে পুরো তিন সপ্তাহ না খেয়ে থাকতে হয় তাকে।

Saturday, 17 November 2012

যে দিন আমায় হারাবে


GKw`b Avwg P‡j hv‡ev wKQzB bv e‡j
†mw`b Zzwg Kuv`‡e শুধুy Si‡e AkÖæ evo‡e †e`bv
†hw`b Avwg i‡ev bv †mw`b Zzwg GKv i‡e 
mewKQzB eyS‡Z cvi‡e hLb Avgvq nviv‡e| 
†hgb dyj dz‡U S‡i hvq †euvUv c‡o _v‡K 
†Zvgvi ü`q Kuv`‡e †mw`b †h w`b Avgvq nviv‡e|

বাংলা সাহিত্যে

  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর  উপন্যাস — বউ ঠাকুরানী হাট — ১৮৭৭ সাল।  কবিতা — হিন্দু মেলার উপহার — ১২৮১ বঙ্গাব্দ  কাব্য — বনফুল — ১২৮২ বঙ্গাব্দ  ছোট গল্প — ভিখারিনী — ১৮৭৪ সাল   নাটক — রুদ্রচন্ড — ১৮৮১ সাল
     
  2. কাজী নজরুল ইসলাম  উপন্যাস — বাধঁন হারা — ১৯২৭ সাল  কবিতা — মুক্তি — ১৩২৬ বঙ্গাব্দ  কাব্য — অগ্নিবীণা — ১৯২২ সাল  নাটক — ঝিলিমিলি — ১৯৩০ সাল   গল্প — হেনা — ১৩২৬ বঙ্গাব্দ
      প্রকাশিত গল্প — বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী — ???
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র  উপন্যাস — আলালের ঘরের দুলাল — ১৮৫৮ সাল
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর  অনুবাদ গ্রন্থ — বেতাল পঞ্চবিংশতি — ১৮৪৭ সাল
     
  5. রাজা রামমোহন রায়  প্রবন্ধ গ্রন্থ — বেদান্ত গ্রন্থ — ১৮১৫ সাল
     
  6. আবদুল গাফফার চৌধুরী  ছোট গল্প — কৃষ্ণ পক্ষ  — ১৯৫৯ সাল  উপন্যাস — চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান   — ১৯৬০ সাল  শিশু সাহিত্য — ডানপিটে শওকত — ১৯৫৩ সাল
  7. আবু ইসহাক  উপন্যাস — সূর্য দীঘল বাড়ি — ১৯৫৫ সাল
  8. আবুল ফজল  উপন্যাস — চৌকির — ১৯৩৪ সাল  গল্প — মাটির পৃথিবী — ১৯৩৪ সাল  নাটক — আলোক লতা — ১৯৩৪ সাল
  9. আবুল মনসুর আহমেদ  ছোট গল্প — আয়না — ১৯৩৫ সাল
  10. আলাউদ্দিন আল আজাদ  কাব্য — মানচিত্র — ১৯৬১ সাল উপন্যাস — তেইশ নম্বর তৈলচিত্র — ১৯৬০ সাল  নাটক — মনক্কোর যাদুঘর — ১৯৫৮ সাল
      গল্প — জেগে আছি — ১৯৫০ সাল
      প্রবন্ধ — শিল্পীর সাধনা — ১৯৫৮ সাল
  11. আহসান হাবীব  কাব্য — রাত্রি শেষ — ১৯৪৬ সাল
  12. গোলাম মোস্তফা  উপন্যাস — রূপের নেশা — ১৯২০ সাল
     
  13. জসীম উদ্দিন  কাব্য — রাখালী — ১৯২৭ সাল
     
  14. জহির রায়হান  গল্প — সূর্য গ্রহন — ১৯৫৫ সাল
     
  15. নীলিমা ইব্রাহিম  উপন্যাস — বিশ শতকের মেয়ে — ১৯৫৮ সাল
     
  16. নূরুল মোমেন  নাটক — নেমেসিস — ১৯৪৮ সাল
     
  17. ফররুখ আহমদ  কাব্য — সাত সাগরের মাঝি — ১৯৪৪ সাল
     
  18. মুনীর চৌধুরী  নাটক — রক্তাক্ত প্রান্তর — ১৩৬৮ বঙ্গাব্দ
     
  19. ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ  ভাষাগ্রন্থ — ভাষা ও সাহিত্য — ১৯৩১ সাল
     
  20. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়  গল্প — মন্দির — ১৯০৫ সাল
     
  21. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়  উপন্যাস –পথের পাঁচালী — ১৯২৯ সাল
     
  22. জীবনান্দ দাশ  কাব্য — ঝরা পালক — ১৯২৮ সাল
     
  23. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়  উপন্যাস — পদ্মা নদীর মাঝি — ১৯৩৬ সাল
     
  24. বেগম সুফিয়া কামাল  গল্প — কেয়ার কাটা — ১৯৩৭ সাল
     
  25. মোহাম্মদ রজিবর রহমান  উপন্যাস — আনোয়ারা — ১৯১৪ সাল
     
  26. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী  কাব্য — অনল প্রবাহ — ১৯০০ সাল
     
  27. মাইকেল মধুসূদন দত্ত ইংরেজি রচনা — The Captive Ladie — ১৮৪৯ সাল  নাটক –শর্মিষ্ঠা — ১৮৫৯ সাল
      কাব্য — তিলত্তমা সম্ভব — ১৮৬০ সাল
      মহাকাব্য — মেঘনাদ বধ — ১৮৬১ সাল
  28. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উপন্যাস ইংরেজি — Rajmohan’s Wife — ১৮৬২ সাল  উপন্যাস বাংলা — দুর্গেশনন্দিনী — ১৮৬৫ সাল
     
  29. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়  নাটক — তারাবাঈ — ???
     
  30. মীর মোশাররফ হোসেন  নাটক — বসন্তকুমারী — ১৮৭৩ সালউপন্যাস — রত্নাবতী — ১৮৬৯ সাল
     
  31. দীনবন্ধু মিত্র  নাটক — নীলদর্পন — ১৮৬০ সাল
     
  32. রামনারায়ন তর্করত্ন  নাটক — কুলীনকুল সর্বস্ব — ১৮৫৪ সাল
     
  33. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ  গল্প — নয়নচারা — ১৯৪৫ সালউপন্যাস — লালসালু — ১৯৪৮ সাল
     
  34. হাসান হাফিজুর রহমান  কাব্য — বিমুখ প্রান্তর — ১৯৬৩ সাল
     
  35. শামসুর রহমান  কাব্য — প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে — ১৯৫৯ সাল
     
  36. শহীদুল্লাহ কায়সার  উপন্যাস — সারেং বউ — ১৯৬২ সাল
     
  37. বন্দে আলী মিঞা  কাব্য — ময়নামতির চর — ১৯৩০ সাল
     
  38. বেগম রোকেয়া  প্রবন্ধ — মতিচুর — ১৯০৪ সাল

*ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ  জন্ম ১৮৮৫ সালে, মৃত্যু ১৯৩১ সালে (১৩ই জুলাই)।

*ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত পত্রিকার নাম অঙ্কুর, ১৯২১ সালে প্রকাশিত হয়।

*Buddhist Mystic songs ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ রচনা করেন।

*ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ তিন জন চন্ডীদাসের উপস্থিতি প্রমান করেছেন

*পদ্মাবতী ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ১৯৫০ সালে সম্পাদনা করেছেন।

*বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচনা করেন।

*বাংলা সাহিত্যে গাজী মিয়া  মীর মশাররফ হোসেন।

*মীর মশাররফ হোসেন জন্মগ্রহন ও মৃত্যুবরণ করেন কবে?

*‘বিষাদ সিন্ধু’ গ্রন্থের রচয়িতাজন্মঃ ১৯৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর এবং মৃত্যুঃ ১৯১১ সালের ১৯ নভেম্বর। প্রকাশিত হয়?

*‘গাজী মিয়ার বস্তানী’ রচয়িতা কে?

*মীর মশাররফ হোসেনের রচিত নাটক কি কি?



ডিম






ভূতগুলো কালো কালো
ডিম হলো নীল,
প্রতি রাতে ডিম খেয়ে
উড়ে গেল চিল।

বড় বড় দাড়ি তার
ফোটে না তো ছানা,
ডালে ডালে ঝুলে ঝুলে
ছানা ধরা মানা।

মাথা নেই-দাঁত আছে
প্রতি রাতে হাসে
বারো মাসে লোকমুখে
এই কথা ভাসে।